কেন্দ্র সরকারের একটি প্রকল্প রয়েছে যেখানে প্রতিবছর বছর 6 হাজার টাকা করে দেওয়া হয়। নারী-পুরুষ সকলেই এই টাকা পেয়ে যান ব্যাংক একাউন্টে। এখানে মোট তিনটি কিস্তির মাধ্যমে ২০০০ টাকা করে দেওয়া হয় এবং বছরের সর্বমোট ৬০০০ টাকা ব্যাংক একাউন্টে চলে আসছে। সারা ভারতের প্রত্যেকটি নাগরিক তথা পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হলেও এখানে আবেদন জানিয়ে এই প্রকল্পের সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন। তবে কিছুদিন আগে শোনা যাচ্ছিল এই প্রকল্পে টাকা বাড়ানো হবে এবং বছরে 6000 এর পরিবর্তে 12000 করে টাকা দেওয়া হবে।ভারতবর্ষের বহু মানুষ এই প্রকল্পের সুবিধা উপভোগ করছেন এবং বছরে ৬০০০ করে টাকা পেয়ে যাচ্ছেন। ১৮ বছরের বেশি বয়স হলে এখানে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে।

ভারতবর্ষে অর্থনীতির মূল ভিত্তি হল কৃষিকাজ। তাই কৃষকদের বিভিন্নভাবে সাহায্য করার জন্য কেন্দ্র সরকার বিভিন্ন ধরনের প্রকল্প এনে তাদের ভীষণভাবে উপকৃত করছেন। কৃষকদের যাতে কোন সমস্যা না হয় সেজন্য বছরের নির্দিষ্ট সময়ে এবং তিনটি কিস্তির মাধ্যমে ব্যাংক একাউন্টে সরাসরি ২০০০ করে সর্বমোট ৬০০০ টাকা দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে সকলেই ভীষণভাবে উপকৃত হচ্ছেন। এই প্রকল্পে শুধুমাত্র কৃষকেরা উপকৃত হচ্ছেন তাই নয় এই প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপকৃত হচ্ছেন। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী চালু করেছিলেন “প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি প্রকল্প” (PM Kisan Samman Nidhi Yojana)।
সম্প্রতি কেন্দ্র সরকার ২০তম কিস্তির অর্থ প্রদান করেছে। এবং আগামী কিছুদিনের মধ্যেই ২১ তম কিস্তিতে টাকা সরাসরি ব্যাংক একাউন্টে চলে আসবে। দেশের ৯.৭ কোটির বেশি কৃষকের অ্যাকাউন্টে প্রায় ২০,৫০০ কোটি টাকা পৌঁছে গেছে। ইতিমধ্যে যারা এখনো আবেদন করে এই প্রকল্পের সুবিধা উপভোগ করতে পারছেন না তারা সরাসরি এই প্রকল্পে আবেদন করতে পারেন এবং আপনার প্রয়োজনীয় সমস্ত তথ্য যদি সঠিক থাকে তাহলে আপনিও ২০০০ টাকা করে পেয়ে যেতে পারেন।
কারা এই প্রকল্পে আবেদন করতে পারবেন?
এখানে সমগ্র ভারতীয় তথা সমগ্র পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দারা যারা উপযুক্ত আবেদন জানানোর সুযোগ পাবেন। বিশেষ করে যারা ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা (যাদের জমির পরিমাণ সীমিত)। অথবা যাদের নামে বৈধ জমির কাগজ রয়েছে তারাও এখানে আবেদন জানাতে পারবেন। এখানে আবেদন জানাতে হলে আবেদনকারীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট আধার কার্ডের সাথে লিঙ্ক থাকতে হবে।
আবেদন পদ্ধতি
এখানে অনলাইনের মাধ্যমে খুব সহজেই আবেদন করা যায়। কৃষকদের আর কোনো অফিসে ঘোরাঘুরি করতে হবে না। ইন্টারনেট থাকলেই আবেদন করা যাবে অনলাইনে। এখানে নিজেরাও অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন জানাতে পারবেন।
ধাপ–১: অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে যান
প্রথমেই আবেদনকারীকে আবেদনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট তথা PM Kisan-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে (pmkisan.gov.in)।
ধাপ–২: “নতুন রেজিস্ট্রেশন” অপশনে ক্লিক করুন
অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ভিজিট করার পরে হোমপেজে উপরের ডানদিকে “New Farmer Registration” অপশন পাবেন। সেখানে ক্লিক করুন।
ধাপ–৩: তথ্য দিন
আপনার আধার নম্বর, মোবাইল নম্বর এবং রাজ্যের নাম নির্বাচন করুন। এরপর আপনার মোবাইলে একটি OTP আসবে। এই প্রতিটি দিয়ে সাবমিট করুন তাহলে আপনার রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়ে যাবে, এরপর ফরম ফিলাপ করতে হবে।
ধাপ–৪: ফর্ম পূরণ করুন
এখানে আবেদনকারীর প্রয়োজনীয় সমস্ত তথ্য যেমন আপনার নাম, ঠিকানা, জমির তথ্য এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর দিন। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টটি অবশ্যই NPCI-এর সাথে লিঙ্ক থাকতে হবে। অর্থাৎ ব্যাংক অ্যাকাউন্টটি আধার লিঙ্ক থাকতেই হবে।
ধাপ–৫: নথি জমা দিন
অনলাইনে আবেদন পত্রটি সঠিকভাবে সম্পূর্ণ করার পরে বেশ কিছু প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট সঠিকভাবে জমা করতে হবে। যে সমস্ত ডকুমেন্টস এখানে দিতে হবে সেগুলোই হল-
- জমির কাগজপত্র (Landholding Paper)
- আয়ের শংসাপত্র
- আধার কার্ড
- ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের ডিটেলস
ধাপ–৬: যাচাই প্রক্রিয়া
সমস্ত তথ্য সঠিকভাবে দিয়ে আবেদন করার পরে সংশ্লিষ্ট জেলা রাজ্য প্রশাসন দপ্তরের তরফ থেকে এই সমস্ত নথিগুলো যাচাই করা হবে। সমস্ত কিছু ঠিকঠাক থাকলে আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে নির্দিষ্ট সময়ে টাকা জমা হবে। এছাড়াও আবেদন করার পরে আপনি ওই ওয়েবসাইটে গিয়েই আপনার আধার নাম্বার অথবা মোবাইল নাম্বার দিয়ে আপনার আবেদনের স্ট্যাটাস চেক করে দেখে নিতে পারেন।
কেন অনেক কৃষক টাকা পাচ্ছেন না?
তবে আপনাকে বেশ কিছু প্রয়োজনীয় কাজকর্ম করতে হবে এবং এগুলো না করলে আপনার টাকা ঢোকা বন্ধ হয়ে যাবে এবং যাদের টাকা ঢোকা বন্ধ হয়ে গিয়েছে তারা এই সমস্ত কাজ করলে আবার টাকা ঢোকা শুরু হয়ে যাবে। অনেক কৃষক এখনও e-KYC সম্পূর্ণ করেননি, ফলে তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকছে না। কিছু ক্ষেত্রে আধার ও NPCI লিঙ্কিং-এর সমস্যা থাকায় টাকা আটকে যাচ্ছে। নথি যাচাইয়ের সময় ত্রুটি থাকলে কিস্তি থেমে যেতে পারে। তাই যারা এখনও e-KYC করেননি, তারা দ্রুত অনলাইনে গিয়ে এটি সম্পূর্ণ করুন।
PM Kisan Samman Nidhi প্রকল্প ছোট থেকে বড় সকল শ্রেণীর এবং সকল ধরনের কৃষকদের জন্য ভীষণভাবে উপকার করছে। বছরে ৬,০০০ টাকা যদিও বড় অঙ্ক নয়, তবুও এটি কৃষকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সহায়তা। এছাড়াও শোনা যাচ্ছে এই প্রকল্পে বছরে ১২ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে এবং যদি এই প্রকল্পের টাকা বাড়ানো হয় তাহলে কৃষকদের জন্য বা যারা এই প্রকল্পের টাকা পাচ্ছেন তাদের জন্য সোনায় সোহাগা।সরকারি সূত্র অনুযায়ী, যেসব কৃষক এখনও এই প্রকল্পে করেননি, তারা দ্রুত অনলাইনে আবেদন করুন। আর যাদের e-KYC বাকি আছে, তারা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সম্পূর্ণ করুন।এই প্রকল্প শুধুমাত্র কৃষকদের নয়, বরং গোটা দেশের গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখছে।

My name is Bongo Sambad, and I have been involved in content writing for the past four years. I provide various types of informative content for users.
