ভারতে প্রায় প্রতিটি সরকারি ও বেসরকারি কাজে আজ আধার কার্ড অপরিহার্য। যে কোন কাজ করতে গেলে আধার কার্ড ছাড়া হয় না। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা থেকে শুরু করে ট্যাক্স, প্রভিডেন্ট ফান্ড বা সরকারি প্রকল্পের সুবিধা—সব ক্ষেত্রেই আধার অন্যতম পরিচয়পত্র। তাই আধার কার্ড হলো ভারতের জনগণের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট। তবে এবার আধার কার্ডে এলো বিরাট বড় পরিবর্তন। আপনার যদি আধার কার্ড থেকে থাকে এবং দশ বছরের বেশি পুরনো থাকে তাহলে আপনাকেও করতে হবে এই কাজ। তাই যাদের আধার কার্ড পুরনো এবং আধারে যদি কোনও ভুল থাকে বা অনেক পুরনো তথ্য যুক্ত থাকে, তাহলে সমস্যায় পড়ার আগেই তাড়াতাড়ি করুন এই কাজ।

Aadhar Card Update 2025
Aadhar Card Update 2025

সম্প্রতি UIDAI (Unique Identification Authority of India) জানিয়েছে, যাদের আধার কার্ড ১০ বছরের বেশি পুরনো, তাদের আধার কার্ড পরিবর্তন করতে হবে না হলে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ইতিমধ্যে আধার দপ্তরের তরফ থেকে পরিচয় ও ঠিকানা সংক্রান্ত তথ্য আপডেট করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এই কাজটি সকলকেই করতে হবে।

আধারের তথ্যের ধরন

আধারের তথ্য সাধারণত দুই ভাগে বিভক্ত—

  1. Demographic Information – নাম, জন্মতারিখ, ঠিকানা, ফোন নম্বর, লিঙ্গ ইত্যাদি। দেওয়া থাকে এগুলোতে যদি কোন সমস্যা থাকে তাহলে আপনাকে তাড়াতাড়ি ঠিক করে নিতে হবে, না হলে পরবর্তীকালে সমস্যায় পড়তে পারেন।
  2. Biometric Information – মুখের ছবি, আঙুলের ছাপ ও চোখের মণির স্ক্যান সংক্রান্ত যদি কোন সমস্যা থাকে তাহলে আপনার আধার কার্ডটি কোন কাজ করবে না। এক্ষেত্রে আপনাকে যাচাই করে দেখে নিতে হবে আপনার কার্ডটি ঠিক আছে কিনা।

এর মধ্যে ডেমোগ্রাফিক তথ্যে ভুল থাকার সম্ভাবনা বেশি থাকে। অনেকের আধার কাটে কিছু না কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে। যেমন—নাম ভুল লেখা, জন্ম তারিখে গরমিল, বা লিঙ্গ ভুল। এগুলো অবশ্য নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে একাধিকবার পরিবর্তন করা যায়। তাই আপনাকে আপনার সময় মতো পরিবর্তন করে নিতে হবে না হলে পরবর্তীকালে সমস্যায় করবেন এমনকি ভুল তথ্য থাকলে আধার কার্ড বাতিলও হয়ে যেতে পারে।

কতবার আপডেট করা যায়?

UIDAI-এর নিয়ম অনুযায়ী—

  • নাম – ছোটখাট পরিবর্তন (Minor Change) সর্বাধিক ২ বার করা যাবে। কারো নাম সংক্রান্ত যদি সমস্যা থাকে তাহলে এটি সারাজীবনকালে সর্বমোট দুবার চেঞ্জ করা যায়।
  • জন্মতারিখ ও লিঙ্গ – কেবল ১ বার পরিবর্তনের সুযোগ, অর্থাৎ আপনার যদি জন্ম তারিখ ভুল থেকে থাকে তাহলে এটি আপনি শুধুমাত্র একবারই চেঞ্জ করতে পারবেন।
  • ঠিকানা – যেখানে আপনি আপনার ইচ্ছামত যে কোন সময়ে এবং যতবার খুশি পরিবর্তন করা যাবে।
  • মোবাইল নম্বর যুক্তকরণ – শুধুমাত্র আধার এনরোলমেন্ট সেন্টারে গিয়ে করা যাবে। মোবাইল নাম্বার সংযুক্ত করলে আপনি বাড়িতে বসে নিজে নিজেই আধার কার্ডের যেকোন তথ্য পরিবর্তন করতে পারবেন।

অনলাইনে পরিবর্তনের জন্য mAadhaar App বা UIDAI-এর ওয়েবসাইট ব্যবহার করা যায়, তবে তার জন্য আধারের সঙ্গে মোবাইল নাম্বার রেজিস্টার্ড থাকা বাধ্যতামূলক।

 ১০ বছর হলে কেন আপডেট দরকার?

১০ বছরের পুরনো আধার কার্ড হলে অবশ্যই সেটি আপডেট করতেই হবে। অনেকের আধার কার্ডে বিভিন্ন ধরনের ভুল ভ্রান্তি থাকে এবং অনেকের বায়োমেট্রিকের সমস্যা থাকে। তাই দশ বছর পর পর আধার কার্ড পরিবর্তন করা হয়, যদি কারো কিছু সমস্যা থাকে তাহলে সেই সমস্ত সমস্যাগুলোর সমাধান করা হয়।

অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়—

  • পুরনো ঠিকানা আধারে থেকে গেছে। অনেকের ঠিকানা পরবর্তীকালে পরিবর্তন হয় তাই আধার কার্ডের ঠিকানা পরিবর্তন করা জরুরী।
  • নাম বা জন্মতারিখে ভুল রয়েছে। অনেকের পুরনো আধার কার্ডের নাম বা জন্ম তারিখে ভুল থেকে যায় এবং সেগুলো ঠিক করা একান্ত জরুরী।
  • অনেকের আধার কার্ডের সঙ্গে মোবাইল নম্বর লিঙ্ক করা হয়নি। বর্তমান দিনে আধার কার্ডের সঙ্গে মোবাইল নাম্বার লিঙ্ক না থাকলে অনেক কাজকর্ম করা যায় না।
  • বায়োমেট্রিক তথ্য (যেমন ছবি বা আঙুলের ছাপ) পুরনো হয়ে গেছে। এগুলো পরিবর্তন করা একান্ত জরুরী।

এই সমস্যাগুলি দূর করতেই UIDAI পরামর্শ দিয়েছে ১০ বছর পর আধার আপডেট করার। আপনার আধার কার্ড যদি ১০ বছরের পুরনো হয় এবং যদি এখনো আপডেট না করিয়ে থাকেন তাহলে এটি আপডেট করিয়ে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। এতে আধার সবসময় হালনাগাদ থাকবে এবং সরকারি-বেসরকারি পরিষেবা পেতে কোনও অসুবিধা হবে না।

 কোথায় আপডেট করা যাবে?

  1. Aadhaar Seva Kendra / Enrollment Centre – সশরীরে গিয়ে তথ্য আপডেট করা যায়। এছাড়াও কারো যদি আধার কার্ডের সঙ্গে মোবাইল নাম্বার লিঙ্ক থাকে তাহলে সে বাড়িতে বসেই পরিবর্তন করতে পারবে।
  2. অনলাইন (UIDAI Portal/mAadhaar App) – ঠিকানা, ডেমোগ্রাফিক তথ্য ইত্যাদি আপডেট করা যায় (যদি মোবাইল নম্বর লিঙ্ক থাকে)। ইতিমধ্যেই আধার কার্ডের তরফ থেকে সকলকে বাধ্যতামূলকভাবে ঠিকানা আপডেট করার কথা বলা হয়েছে।

সম্পূর্ণ বিনামূল্যে আপনি আপডেট করতে পারবেন তবে কিছু কিছু বড় আপডেট করার জন্য অল্প কিছু ফি দিতে হবে।

ভোটার কার্ড, পাসপোর্ট বা ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকলেও আজকের দিনে আধার কার্ডই সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত পরিচয়পত্র। যেকোনো তথ্য বা যেকোনো ডকুমেন্টস বানাতে গেলে আধার কার্ড অপরিহার্য। ফলে এটি সর্বদা সঠিক ও হালনাগাদ রাখা অত্যন্ত জরুরি। UIDAI-এর নির্দেশ অনুযায়ী, আধার ১০ বছর হলে আপডেট করলে ভবিষ্যতে কোনও সরকারি বা আর্থিক কাজে সমস্যায় পড়তে হবে না।