বর্তমান দিনে বিশেষ করে বর্তমানে ডিজিটাল যুগ আর এই সময় আপনার বিভিন্ন কারণে পঞ্চায়েতের যে কোন সার্টিফিকেট দরকার হলে অথবা পঞ্চায়েতের কোন কাজকর্ম করতে হলে আর আপনাকে পঞ্চায়েতে দৌড়াতে হবে না এখন বাড়িতে বসেই আপনি পঞ্চায়েতের সমস্ত কাজ করতে পারবেন। আপনি বাড়িতে বসেই SC/ST/OBC কার্ড থেকে শুরু করে জন্ম সার্টিফিকেট, মৃত্যু সার্টিফিকেট বা অন্যান্য যে কোন কাগজপত্র এখন বাড়িতে বসেই আপনি বানাতে পারবেন। এই ডিজিটাল যুগে এখন আর আপনাকে কোন কাগজ বা কোন শংসাপত্রের জন্য স্থানীয় পঞ্চায়েত অফিসে বারবার যেতে হবে না, দিনের পর দিন লাইনে দাঁড়িয়ে সময় নষ্ট করতেও হবে না, এখন শুধুমাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে ঘরে বসেই আপনি পেয়ে যাবেন সমস্ত কাগজপত্র। পশ্চিমবঙ্গ সরকার চালু করেছে “Banglar Panchayat” অনলাইন সার্ভিস পোর্টাল, যার মাধ্যমে সাধারণ মানুষ এখন তাদের প্রয়োজনীয় সার্টিফিকেট অনলাইনে সংগ্রহ করতে পারবেন।

Panchayat Certificate Online
Panchayat Certificate Online

কেন গুরুত্বপূর্ণ এই অনলাইন সার্টিফিকেট পরিষেবা?

বর্তমান দিনের মানুষ কর্মব্যস্ত আর বর্তমানের সমস্ত কিছু অনলাইনে পাওয়া যায় তাই সমস্ত কিছু এখন একই জায়গায় আপনি পেয়ে যাবেন এই সুবিধার জন্যই রাজ্য সরকার চালু করেছে বাংলার পঞ্চায়েত অনলাইন সার্ভিস পোর্টাল। আগেকার দিনে যেখানে একটি কাগজ বানানোর জন্য বারবার খোঁজ দিতে হতো পঞ্চায়েত অফিসে গিয়ে বিশেষ করে শংসাপত্র, আয় শংসাপত্র বা জাতিগত শংসাপত্র পেতে সাধারণ মানুষকে দৌড়ঝাঁপ করতে হত। স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতে গিয়ে লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হতো। এর ফলে সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি দুর্নীতিরও সম্ভাবনা থেকে যেত। কিন্তু Panchayat Certificate Online System 2025 চালু হওয়ায় এখন আর এই ঝামেলায় পড়তে হচ্ছে না। অনলাইন পদ্ধতি স্বচ্ছতা, সময় সাশ্রয় এবং দুর্নীতি প্রতিরোধের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখছে।

কোন কোন সার্টিফিকেট এখন অনলাইনে পাওয়া যাবে?

এই পোর্টালে লগইন করলেই ব্যবহারকারীরা একাধিক প্রয়োজনীয় সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন করতে পারবেন। যেমন—

  • আবাসিক শংসাপত্র (Residential Certificate): স্কুল-কলেজে ভর্তি, চাকরির আবেদন বা অন্য যেকোনো সরকারি কাজে রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেট প্রয়োজন হয় যেটি আপনি বাড়িতে বসেই বানিয়ে নিতে পারবেন।
  • আয় শংসাপত্র (Income Certificate): স্কলারশিপ বা সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেতে ইনকাম সার্টিফিকেট প্রয়োজন হয় যা আপনি এখন বাড়িতে বসেই বানাতে পারবেন ।
  • জাতিগত শংসাপত্র (Caste Certificate): আপনি যদি কাস্ট সার্টিফিকেট বানাতে চান বিশেষ করে SC/OBC/ST/EWS যেটি আপনি খুব সহজেই এখান থেকে বানিয়ে নিতে পারবেন এছাড়াও এটি সংরক্ষিত কোটার সুবিধা বা শিক্ষা ও চাকরির ক্ষেত্রে অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
  • চরিত্র শংসাপত্র (Character Certificate): চাকরি, ভাড়া বা পাসপোর্টের আবেদন করতে দরকার।
  • অবিবাহিত শংসাপত্র (Unmarried Certificate): ভিসা, বিদেশে পড়াশোনা বা কিছু সরকারি প্রকল্পের জন্য ব্যবহৃত।
  • একই ব্যক্তি শংসাপত্র (Same Person Certificate): নথিতে নামের ভিন্নতা প্রমাণের জন্য প্রয়োজনীয়।
  • দূরত্ব শংসাপত্র (Distance Certificate): স্কুল বা কলেজের ক্ষেত্রে বাড়ি থেকে দূরত্ব যাচাই করতে লাগে।

আবেদন করার জন্য কী কী নথি প্রয়োজন?

অনলাইনে আবেদন জমা দেওয়ার আগে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট স্ক্যান করে রাখা আবশ্যক। এর মধ্যে রয়েছে—

  • সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজের ছবি প্রয়োজন
  • আধার কার্ড বা ভোটার কার্ডের কপি দেখাতে হবে পরিচয় প্রমাণ হিসেবে
  • রেশন কার্ড বা বিদ্যুৎ বিল স্থায়ী বাসিন্দা প্রমাণ হিসেবে
  • আয়ের প্রমাণপত্র (BDO কর্তৃক প্রদত্ত সার্টিফিকেট বা অ্যাফিডেভিট)
  • জাতিগত শংসাপত্রের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী কাস্ট ডকুমেন্ট

কীভাবে অনলাইনে আবেদন করবেন?

এখানে আবেদন জানাতে হবে সম্পূর্ণ অনলাইন পদ্ধতির মাধ্যমে। এজন্য আপনি আপনার হাতে থাকা মোবাইল ফোনটি দিয়েই অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন জানাতে পারবেন। কিভাবে আবেদন জানাবেন চলুন জেনে নেওয়া যাক-

১. প্রথমে যেতে হবে অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে Banglar Panchayat Portal
২. হোমপেজ থেকে “Apply Online” অপশনে ক্লিক করতে হবে।
৩. রেজিস্ট্রেশন করার জন্য মোবাইল নম্বর দিয়ে OTP যাচাই সম্পন্ন করতে হবে।
৪. এরপর আবেদন ফর্মে জেলা, ব্লক, গ্রাম পঞ্চায়েতসহ ব্যক্তিগত সমস্ত তথ্য নির্ভুল ভাবে দিতে হবে।
৫. এরপর আপনার প্রয়োজনীয় নথি আপলোড করতে হবে সঠিক ফরম্যাটে।
৬. সব তথ্য যাচাই করে সমস্ত কিছু ঠিকঠাক থাকলে Submit বাটনে ক্লিক করতে হবে।
৭. একটি রেজিস্ট্রেশন নম্বর পাওয়া যাবে, যা দিয়ে আবেদন ট্র্যাক করা যাবে। কবে আপনি এই সার্টিফিকেট পাবেন এবং আপনার সার্টিফিকেটের স্ট্যাটাস আপনি খুব সহজেই চেক করে নিতে পারবেন।

আবেদন স্ট্যাটাস কীভাবে দেখা যাবে?

আবেদন জমা দেওয়ার পর ওয়েবসাইটে গিয়ে “Check Application Status” অপশনে ক্লিক করলে সহজেই জানা যাবে সার্টিফিকেট অনুমোদিত হয়েছে কি না। এখান থেকে আপনারা আপনাদের যে ডকুমেন্টস এর প্রয়োজন সেই ডকুমেন্টস এর স্ট্যাটাসে দেখা যাবে—

  • Pending (যাচাই চলছে)
  • Approved (অনুমোদিত)
  • Rejected (কারণ উল্লেখ থাকবে)
  • Ready for Download (ডাউনলোডের জন্য প্রস্তুত)

এর ফলে আর আপনাকে পঞ্চায়েতে দৌড়াতে হবে না আপনি আপনার সার্টিফিকেট বা যে ডকুমেন্টস এর প্রয়োজন সেটি ডাউনলোড করে শুধুমাত্র প্রিন্ট আউট বের করে নিয়ে গেলে সমস্ত কাজ হয়ে যাবে।

কত সময় লাগে সার্টিফিকেট পেতে?

সাধারণভাবে আবেদন করার পর ৫-৭ কর্মদিবসের মধ্যে সার্টিফিকেট প্রস্তুত হয়ে যায়। তবে কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত যাচাই প্রয়োজন হলে সময় আরও বাড়তে পারে। তবে ইনকাম সার্টিফিকেট বা রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেট ১-২ দিনের মধ্যেই পাওয়া যায়।

এই পরিষেবা নিঃসন্দেহে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এক বড় পদক্ষেপ। এর ফলে পশ্চিমবঙ্গের মানুষদের আর হয়রানিতে পড়তে হবে না। কারণ এটি শুধুমাত্র সময় বাঁচাচ্ছে তা নয়, সাধারণ মানুষকে দুর্নীতি ও অপ্রয়োজনীয় ঝামেলা থেকেও মুক্ত করছে। আগে যেখানে একটি সার্টিফিকেট পেতে সপ্তাহ বা মাস লেগে যেত, এখন তা অনলাইনে ঘরে বসেই কয়েক দিনের মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমান সমস্ত কিছু আরও সহজ থেকে সহজতর হয়ে যাচ্ছে।

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের Panchayat Certificate Online 2025 প্রকল্প মূলত সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য তৈরি, এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের আর অতিরিক্ত সময় অপচয় হবে না। এই ডিজিটাল পরিষেবা স্বচ্ছতা, সহজলভ্যতা এবং দ্রুততার নতুন দিশা দেখাচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও বিভিন্ন সার্টিফিকেট এই তালিকায় যুক্ত হলে গ্রামীণ থেকে শহর—সব মানুষই সমানভাবে উপকৃত হবেন।