ভারতীয় নাগরিকদের জন্য একটি বিশাল বড় সুখবর। কেন্দ্র সরকারের নতুন একটি প্রকল্প রয়েছে যেখানে আবেদন করলে আপনি প্রতি মাসে মাসে পেয়ে যেতে পারেন ৩০০০ করে টাকা। আপনার বয়স যদি ১৮ বছর থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হয়ে থাকে তাহলে আপনি এই প্রকল্পে আবেদন করে এই প্রকল্পের সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন। কেন্দ্র সরকারের একটি কার্ড বানাতে হবে এবং এটি বানালেই আপনি পেয়ে যাবেন এই সুবিধা। এর পাশাপাশি আরও বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে কেন্দ্র সরকারের তরফ থেকে। বিশেষ করে যারা দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর এবং কৃষিকাজ থেকে শুরু করে অন্যান্য আরো বিভিন্ন কাজকর্মের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে তারা সকলেই এই প্রকল্পের সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন।

E Shram Card 2025
E Shram Card 2025

ভারতের অধিকাংশ মানুষ কৃষি নির্ভর বা শিল্প বা অন্যান্য কাজের সঙ্গে যুক্ত অর্থাৎ ভারতে অর্থনৈতিক কাঠামোর একটা বড় অংশ মূলত অসংগঠিত ক্ষেত্রে কাজ করে। কৃষি শ্রমিক থেকে শুরু করে নির্মাণ সাইটের দিনমজুর, রিকশাচালক থেকে হস্তশিল্পী— এই সমস্ত মানুষ দেশের উন্নয়নে অবদান রাখলেও, দীর্ঘদিন ধরে তাদের জন্য কোনো স্থায়ী সামাজিক সুরক্ষা বা আর্থিক ভরসা ছিল না। বিশেষ করে যত ধরনের সরকারি চাকরিজীবীরা যেখানে পেনশন, ইপিএফ, ইন্স্যুরেন্সসহ একাধিক সুবিধা পান, কিন্তু ভারতে যারা অসংগঠিত ক্ষেত্রে কাজ করে অর্থাৎ শ্রমিক শ্রেণীর বা কৃষি কাজের সঙ্গে যুক্ত বা অন্যান্য কাজের সঙ্গে যুক্ত তারা কোন ধরনের আর্থিক সুরক্ষা পাচ্ছিল না সরকারের তরফ থেকে। এবার আর চিন্তার কারণ নেই। কেন্দ্রীয় সরকার ই-শ্রম কার্ড প্রকল্প চালু করেছে, যার মাধ্যমে ভারতে যারা অসংগঠিত ক্ষেত্রে কাজ করে তারা একটি পরিচয় পত্র প্রদান পাবে এবং সরকারি সামাজিক সুরক্ষা পেয়ে যাবে। এছাড়াও এই কার্ড থাকলে আপনি সরকারি বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা এবং অসংগঠিত ক্ষেত্রে কাজের সুযোগও পেয়ে যাবেন। আর সব থেকে বড় কথা হলো এখানে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করলে মাসে ৩০০০ টাকা পর্যন্ত ভাতা বা ভবিষ্যৎ পেনশনের সুযোগ। তাহলে কিভাবে আপনারা এই সুযোগ সুবিধা পাবেন চলুন বিস্তারিত ভাবে জেনে নেওয়া যাক।

 ই-শ্রম কার্ড কী এবং কেন চালু করা হয়েছে

ই-শ্রম কার্ড একটি National Database of Unorganised Workers (NDUW)-এর অংশ। অর্থাৎ যারা অসংগঠিত ক্ষেত্রে কাজের সঙ্গে যুক্ত তাদের তথ্য সরকারের কাছে থাকবে এবং সরকার বিভিন্ন সময় তাদের বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিতে পারবে। এই কার্ডের মাধ্যমে শ্রমিকরা একটি ইউনিক ইউনিভার্সাল অ্যাকাউন্ট নম্বর (UAN) পান, যা সারা দেশে কার্যকর এবং সরকারি সুবিধা গ্রহণে কাজে লাগে। এর ফলে সরকার এদের বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিতে পারে। এছাড়াও এর মূল উদ্দেশ্য হলো অসংগঠিত খাতের শ্রমিকদের পরিচয় নথিভুক্ত করা, ভবিষ্যতে তাদের সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় আনা, দুর্ঘটনা বীমা, পেনশন, মাতৃত্বকালীন সহায়তা প্রভৃতি প্রদান এছাড়াও একটা বয়সের পরে প্রতি মাসে মাসে ৩০০০ টাকা করে প্রদান। এর ফলে শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত হয়।

 মাসে ৩০০০ টাকা ভাতা ও পেনশন স্কিম কিভাবে পাবেন 

প্রথমেই আপনাকে সরকারি এই ওয়েবসাইট থেকে ই শ্রম কার্ড বানিয়ে নিতে হবে। এই কার্ড বানানোর পরে আপনি বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাবেন। ই-শ্রম কার্ডধারীরা Pradhan Mantri Shram Yogi Maandhan (PM-SYM) স্কিমে অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন। এবং এই প্রকল্পের আওতায় আপনারা প্রতি মাসে ৩০০০ টাকা পর্যন্ত পেয়ে যাবেন।

এখানে আবেদন করার শর্ত:

  • এখানে আবেদন করতে হলে আবেদনকারীকে অবশ্যই একজন ভারতীয় নাগরিক হতে হবে।
  • আবেদনকারীর বয়স হতে হবে অবশ্যই ১৮ থেকে ৫৯ বছরের মধ্যে।
  • ব্যাংক একাউন্টের সঙ্গে মোবাইল নাম্বার লিঙ্ক থাকতে হবে
  • অসংগঠিত ক্ষেত্রে কোন কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকতে হবে বিশেষ করে কৃষিকাজ বা শিল্প বা কলকারখানায় কাজ বা অন্যান্য যে কোন কাজ। অর্থাৎ এখানে দিনমজুর, রিকশাচালক, কৃষিশ্রমিক, মৎস্যজীবী, গৃহকর্মী, হস্তশিল্পী, ক্ষুদ্র ব্যবসার কর্মচারী সকলেই সুবিধা পেয়ে যাবেন।
  • এখানে বয়স ভেদে মাসিক ৫৫ টাকা থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত অবদান দিতে হবে সমপরিমাণ অর্থ সরকার ও আপনার জন্য জমা করবে।
  • সমস্ত শর্ত পূরণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আপনি প্রতি মাসে মাসে ৩০০০ টাকা করে পেয়ে যাবেন। তবে এক্ষেত্রে আপনার বয়স হতে হবে ৬০ বছর।

 এই প্রকল্পের সুবিধা 

ই-শ্রম কার্ডধারীরা Pradhan Mantri Suraksha Bima Yojana (PMSBY)-এর আওতায় দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু বা স্থায়ী অক্ষমতায় ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বীমা পান। আংশিক অক্ষমতায় বীমা ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত দেওয়া হয় সরকারের তরফ থেকে। এছাড়াও বয়স ৬০ বছরের বেশি হলে প্রতি মাসে মাসে ৩০০০ করে টাকা দেওয়া হয়। এছাড়াও আপনাদের এই কার্ড থাকলে আপনারা সরাসরি PM Kisan, PMAY, Ayushman Bharat-এর মতো অন্যান্য স্কিমে সুবিধা উপভোগ করতে পারেন।

আবেদন পদ্ধতি

১. প্রথমেই অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে ভিজিট করতে হবে – https://eshram.gov.in

২. এরপর আধার নাম্বার এবং মোবাইল নাম্বার দিয়ে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া করে নিতে হবে এবং আধারের সঙ্গে মোবাইল নাম্বার লিঙ্ক থাকতে হবে ও আবেদন করার সময় মোবাইল নাম্বারে একটি OTP আসবে।

৩. রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়াটি হয়ে গেলে প্রয়োজনীয় সমস্ত তথ্য দিয়ে আবেদন পত্রটি পূরণ করতে হবে। এক্ষেত্রে নাম, বয়স, ঠিকানা ও অন্যান্য তথ্য ভালোভাবে যথাযথ স্থানে বসাতে হবে।

৪. এরপর বেশ কিছু প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস যেমন ব্যাংক পাসবুকের স্ক্যান, আধার কার্ড স্ক্যান করে আপলোড করতে হবে।

৫. সমস্ত কিছুর সঠিকভাবে ও সফলভাবে জমা দেওয়ার পর PDF আকারে ই-শ্রম কার্ড ডাউনলোড হবে

সমস্ত কিছু সঠিকভাবে দেওয়ার পরে আবেদন পত্রটি যদি গ্রহণযোগ্য হয় তাহলে আপনাকে ই শ্রম কার্ড দেওয়া হবে। সব আবেদন কেন্দ্রীয় ডাটাবেসে যাচাই হয়। অনুমোদনের পর সরাসরি Direct Benefit Transfer (DBT)-এর মাধ্যমে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা জমা হয়। আধার-বেসড পেমেন্ট সিস্টেম (AePS) ব্যবহার হওয়ায় মধ্যস্বত্বভোগীর সুযোগ কম।

ই-শ্রম কার্ড শুধুমাত্র একটি পরিচয়পত্র নয়; এটি অসংগঠিত শ্রমিকদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার একটি বড় পদক্ষেপ। এই কার্ড বানানো থাকলে আপনার ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত থাকে। আপনার বয়স ১৮ বছরের বেশি হলেই আপনি এই কার্ড বানিয়ে এই প্রকল্পের সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন। ভবিষ্যতে এটি যদি সঠিকভাবে পরিচালিত হয়, তাহলে কোটি কোটি শ্রমিকের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।